সময়ের ভাঙা ঘাটে ।। ‎রফিকুল ইসলাম

‎
‎নদীর চরে তখন সন্ধ্যা গুটিয়ে নিয়েছে আলো
‎নৌকা বাঁধা পড়েছে কাদায় ---
‎একা দাঁড়িয়ে আছি আমি সময়ের ভাঙা ঘাটে
‎নিভে যাওয়া কুপির মতো অকারণ।
‎
‎বুড়ো বটের কাছে শুধালাম - কোথায় যাব?
‎আমার পথটাই আমাকে চেনে না ধানী আভায়,
‎অঘ্রাণের উঠোনে কেন এত ধুলো জমে
‎ভাটিয়ালি কেন কাঁদে না আর ভরা গাঙের গায়!
‎
‎উইপোকায় কুরে খায় গোলা ভরা ধান
‎কুকুর ডাকে শূন্য গোয়ালে ---
‎ডাহুক ডেকে যায় ভেজা বিলে অবিরাম
‎মরা জোছনার বুক চিরে জাগে পোড়া স্বপ্ন
‎থরে থরে সাজানো কত না বলা কথা
‎বোবা পুঁথির মতো পড়ে থাকা রাতের পাতায়।
‎
‎হিম হাওয়া বয়ে যায় শূন্য উঠোনে উঠোনে
‎চেনা গাঁয়ের চেনা ভিটে ছুঁয়ে ছুঁয়ে
‎আবার কি ভাসবে ভেলা গাজনের গানে!
‎লাঙল কি নামবে মাঠে ভোরের কুয়াশা ঠেলে
‎বউ-ঝিরা ভিজে ভিজে ধান শুকাবে ---
‎এ সব শব্দ এখন আর মেলে না কোথাও
‎কতকাল যেন শুনি না ঢেঁকির ছন্দে পা ফেলা গান।
‎
‎আহা! কতকাল যেন পুকুরপাড়ে কুড়াইনি
‎আম-কুড়ানো ভোরে ঝরা আমের ঘ্রাণ,
‎মনে নেই কবে শেষ ভিজেছি নতুন জলে
‎খুঁজিনি বাঁশবনে জোনাকির নিভু নিভু প্রাণ
‎মানিনি মায়ের বকুনি শ্রাবণ দুপুর,
‎মনে বাজে এইসবই - দূর হেমন্তের মতো
‎অসমাপ্ত কোনো গানের সুর।

‎

Post a Comment

0 Comments