মুক্তির বহমান নদী জনতাই ।। বিপুল চন্দ্র রায়

মুক্তির বহমান নদী জনতাই - বিপুল চন্দ্র রায়
অনলাইন সংস্করণ ।। ই-পেপার বর্ষ - ৫ম সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মুক্তির বহমান নদী জনতাই

রাজারহাট-কুড়িগ্রাম
বিপুল চন্দ্র রায়

এই বদ্বীপের মাটি ঘেঁষে হেঁটে যায় দীর্ঘশ্বাস,

একটি মেহনতি হাত, রোদে পোড়া মুখ,

বেকারত্বের দীর্ঘ ছায়ায় হেঁটে চলা তরুণের চোখ,

আর বুটের নিচে নিষ্পেষিত হওয়া স্বপ্নের ধ্বনি।

তারা চেয়েছিল শুধু একটুখানি নিশ্চিত জমিন,

যেখানে ঘাম ঝরালে মিলবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক,

যেখানে কথা বললে গলা টিপে ধরা হবে না,

যেখানে হাসপাতালে সুচিকিৎসার জন্য

কাউকে অশ্রু বিসর্জন দিতে হবে না,

যেখানে বিচারালয়ের দরজা থেকে শূন্য হাতে

ফিরে যাবে না কোনো নিঃস্ব মানুষ।

তবুও শোষণের অবসান ঘটে না এই অবহেলিত জনপদে,

যুগে যুগে সিংহাসন বদলায়, নাম বদলায় শাসকের,

কিন্তু জনতার তৃষ্ণা মেটে না সহজে।

তারা জমা করে রাখে ক্ষোভ,

নীরবতার আড়ালে বুনে চলে এক মহাজাগরণের জাল।

কারণ তারা জানে, ইতিহাসের শেষ পাতাটি শাসক নয়,

লিখে দিয়ে যায় রক্তে লেখা এই অবহেলিত জনতাই।

জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা কোনো সাময়িক ঢেউ নয়,

এ এক চলন্ত নদী, যা সমস্ত বাঁধ ভেঙে

একদিন ঠিকই খুঁজে নেবে তার মুক্তির সমুদ্র।

আমরা অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ ধরে পথ হাঁটি শতাব্দী...

কারণ এই দেশ, এই নদী, এই মেঘলা আকাশ

কারো ব্যক্তিগত সম্পদের দলিল নয়,

এ তো কোটি মানুষের রক্তে,ঘামে আর

আকাঙ্ক্ষায় আঁকা এক জীবিত মানচিত্র

Post a Comment

0 Comments