তোমার অভিযোগ, আমি নাকি হাসতে জানি না।
প্রায়ই তুমি বলো, মন খুলে হাসলে নাকি রোগ-বালাই সারে।
চারিদিকে মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণা,
কষ্টের হাহাকার দেখে আমার সমস্ত হাসি লোপ পায়।
কৃত্রিমতার কাছে আত্মসমর্পণ করে আমি কখনো হাসতে পারি না।
তাই বলে কোনো অপশক্তির কাছে
পরাভূত হয়ে হাসতে ভুলে যাব—এমন তো কথা নয়।
বাংলার সবুজ মাঠে শস্যের ঝিলিক দেখে
আমার মন খুলে আনন্দে নাচতে ইচ্ছে করে।
ভরা পুকুরে মাছের সাথে আনন্দে সাঁতার কাটতে ইচ্ছা করে।
সোনার বাংলার চাষিদের একদিন গোলাভরা ধান,
পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গরু ছিল।
রাখালের বাঁশির সুরে তখন আমি মন খুলে হাসতাম।
আনন্দের সব উপলক্ষ হারিয়ে যাওয়ার পর
আমার মুখে হাসির প্রত্যাশা করা মানে
বিনা বিচারে ক্রসফায়ার করা।
আমি সেদিন আবার হাসতে চাই,
যেদিন লাল-সবুজের দেশের মানুষ
মৌলিক চাহিদার জন্য হাহাকার করবে না,
কোনো যুবক বেকারত্বের জ্বালায় ধুঁকে ধুঁকে মরবে না।
সেই দিনের অপেক্ষায় আছি—প্রাণ খুলে হাসবো বলে।
0 Comments