জোলার হাসি আর ভোলার শিক্ষা ।। বিপুল চন্দ্র রায়

তিস্তা নদীর পাড়ত দুই বন্ধুর বাস—একজন হইল হদ্দ-সরল ভোলা, আর জন হইল মহা-সিয়ানা জোলা। একদিন জোলা বুদ্ধি দিল, উইঠে আয় ভোলা, আজ এলা পিকনিক করি। তোর ঘরের মুরগিটা চুরি করিয়া তিস্তার চরত নিয়া যাইয়া রান্ধি খাই।

ভোলা অবাক হয়া কয়, নিজের ঘরের মুরগি মুই ক্যেনে চুরি করিম?

জোলা দাঁত ক্যালাইয়া কয়, আরে বাহে, নিজের মুরগি নিজে চুরি করি খাওয়ার মজাই আলাদা! চুপিচুপি রান্ধিম, কাকো দিম না—অমন স্বদ কি আর কপালত জোটে?

সরল ভোলা রাজি হয়া গেইল। তিস্তার চরত গিয়া রান্ধাবাড়া শেষ হইল। মাংসের গন্ধে ভোলার পেটত তখন চুঁইচুঁই করি গীত গায়। ঠিক ওই সময় সিয়ানা জোলা এক ফন্দি আঁটিয়া কইল, “এই শোন ভোলা, এমনে খাইলে মজা হবার না। আয় কানামাছি খেলি। যে জিতবি, সউগ মাংস তার।”

ভোলা সরল মনে রাজি হইল। সিয়ানা জোলা সুযোগ পাইয়া নিজের গামছা দিয়া ভোলার চোখ দুইটা কষিয়া বান্ধি দিল। ভোলা যখন হ্যাবলা হইয়া জোলা রে, তুই কোটে? করিয়া হাতড়াইয়া বেড়ায়, জোলা তখন আড়ালে বসিয়া গপগপ করি সউগ মাংস সাবাড় করি ফেলাইল।

খেলা শেষে চোখ খুলি ভোলা দেখে—পাতিল ফকফকা! কেবল কয়েকটা সাদা হাড় পড়ি আছে। ভোলা যখন প্যাঁক-প্যাঁক করি কান্দা ধরিল, জোলা তখন হো হো করি হাসি কয়—

“বাহে ভোলা, তুই তো দেখি দাতা হয়া গেলু! নিজের মুরগি চুরির পুণ্য আর বন্ধুখ খাওয়ানোর সওয়াব—একসাথে দুইটাই পাইলি। এলা এই হাড় ক’টা চিবাইয়া বাড়ির পথ ধর!”

পেটত খিদা আর চোকত জল নিয়া ভোলা সেদিন বুঝিল—চোরের বুদ্ধি আর সিয়ানার হাসি, সরল মাইনষের কপালত দেয় ফাঁসি!

Post a Comment

0 Comments