বিপুল চন্দ্র রায়-এর দুটি কবিতা: হামার মায়ের ভাষা এবং ভেঙে যাচ্ছে ঘরসংসার

হামার মায়ের ভাষা

 

যে ভাষাত্ মাও প্রথম শিখাইছে ম্যালা মমতা করি,

অ আ ক খ—

যে ভাষাত্ বাপে দেখাইছে স্বপনো, বুকত্ আশা ভরি।

ঐ ভাষাটাই মোর মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা জানি।

ওমরা কাড়ি নিবার চাইছিলো মোর মাও-এর মুখের বুলি,

ঐ নরপিশাচ শত্রুদের হামরা  ক্যামনে করি ভুলি?

হাড় কাঁপানো ঐ দিনত্ যখন নামিলো আঁধার ঘোর,

পিশাচগুলার গুলিত্ রক্তে ভাসিল দ্যাশটা মোর।

কত মায়ের কোল হইলো খালি, কত বোইনের কান্দন,

ছিঁড়বার তো পারে নাই ওমরা বাংলা মায়ের বান্ধন।

বুকের রক্ত ঢালি দিয়া জবাব দিছে ভয়হীন ছাওয়াগুলা,

কত্ত শত রক্তের অক্ষরে লেখা হইছে মুক্তির গান,

রক্ত দিয়া কেনা এই বর্ণমালা, হামরা রাখমো এর মান।

শিমুল-পলাশ রাঙা পথে ফাগুন যখন আইসে,

শহীদ মিনার কথা কয় যে, আপন ইতিহাসে।

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার—

ওমার রক্তে মুক্ত হইলো পরানের বাংলা বাণী।

অমর একুশ জ্যান্ত আজো, বাংলার গর্ব মানি।



ভেঙে যাচ্ছে ঘরসংসার

 

রক্তিম গোধূলি বেলায় আজ তাসের প্রাসাদে ফাটল ধরেছে,

যেখানে বিশ্বাসের লেনাদেনা ছিল,

সেথা আজ সংশয়ের লোনাজলে ধুয়ে যাচ্ছে সযত্নে বোনা আল্পনা।

বিচ্ছেদের এই দাবদাহে ঝরে পড়ছে স্মৃতির জীর্ণ পত্রাবলি,

বিবর্ণ পাণ্ডুলিপিতে রুদ্ধ হয়েছে মায়ার অন্তিম পঙক্তি।

আমৃত্যু কাছে থাকার প্রতিশ্রুতি, অথচ ভেঙে যাচ্ছে ঘরসংসার।

অবিশ্বাসের তিমিরে নিমজ্জিত সেই চেনা মুখ,

হৃদয়কুঠিরে আর বেজে ওঠে না অনুরাগের বীণা।

পারস্পরিক সংঘাতের অনলে ভস্মীভূত সব স্মৃতি,

অশ্রুসিক্ত নয়নে রচিত হচ্ছে মিলনের ইতি।

Post a Comment

0 Comments