পৃথিবীর কত নৈসর্গিক
সৌন্দর্য রয়ে
গেল অধরা,
জ্যোৎস্নার সুধা, নীলিমার
বিস্তার—সবই
যেন মরীচিকা-ভরা।
আত্মহারা শীতল বাতাস
ছুঁয়ে যায়
অনন্ত প্রাণ,
তবু তার মিষ্টি
পরশে জাগে'নি আমার
অব্যক্ত অভিমান।
দূরত্বের অন্তরালে দেখেছি
মায়ার গহন
আবেশ,
দু"হাত স্পর্শ
করা হয়নি,
রয়ে গেছে
অপূর্ণ রেশ।
নয়নের নীরব ক্যানভাসে
আঁকি তার
প্রতিচ্ছবি,
অলক্ষ্যে হৃদয় জুড়ে
বাজে এক
অশ্রুত রাগিণী।
আমি এক নির্বোধ
পথিক, অধরাকে
ছুঁতে চাই
বারংবার,
অপ্রাপ্যের মায়াবী মোহে
হারাই নিজেকে
অনিবার।
আমার সুখের সংজ্ঞাটি
যে অদ্ভুত,
অচেনা তার
ভাষা,
সে নিজেও জানে
না—তবু
তাকে ঘিরেই
আমার প্রত্যাশা।
দুই নয়নের অন্তঃপুরে
তারই কল্পিত
ছবি জাগে,
নিঃশব্দ অনুরাগ এসে
অব্যক্ত স্বপ্নের
অনুরাগে।
দুটি হাতের উষ্ণতা
আজন্মের এক
আসা জাগায়।
স্পর্শহীন সেই আকাঙ্ক্ষাই
বয়ে বেড়াই
নিশিদিন নিরুপায়।
কিছু অনুভব উচ্চারিত
হয় না,
থাকে নীরবতার
অন্তরালে,
কিছু মায়া স্পর্শহীন
থেকেও হৃদয়ের
গভীরতম কুঠুরিতে
জ্বলে।
অধরা বলেই হয়তো
সে এত
আপন, এত
চিরন্তন,
দুটি হাত ছোঁয়া
হয়নি কখনো—তবু সে-ই আমার
অনির্বচনীয় স্পন্দন।
0 Comments