তবুও তুমি ভালো থেকো-সুলেখা আক্তার শান্তা
সংসারের বড় ছেলে ফয়সাল। পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিয়ের বয়স পার হয়ে যায়। মা আবিদা ছেলের কথা চিন্তা করে বলেন, বাবা সংসারে দায়িত্ব পালন তো আর কম করলি না। দুই বোনের বিয়ে দিলি আর আছে এক বোন, এক ভাই, ওদের নিয়ে ভাবিস না। এবার নিজের কথা ভাব। বিয়ে-শাদী কর। মায়ের কথায় ফয়সাল বলে, না মা টিনা আর রবিনের একটা কিছু করার পরে, তারপরে নিজের কথা চিন্তা করা যাবে। ওরা পড়ালেখা করছে করুক। আল্লাহ ভরসা। তিনি ওদের দেখবেন। তুই ঘর সংসারী হ। ফয়সাল কোন কথা বলে না। আবিদা ভাবেন, ছেলে সহজে বিয়ের মত দিবে না যা করার নিজেরই করতে হবে। সে ছেলের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করে। ফয়সালকে মেয়ে দেখতে নেওয়া যায় না। নানা অজুহাত, ছোট দুই ভাই, বোনের বিয়ের দায়িত্ব শেষ করে তবে সে বিয়ে করবে। আর না হয় কোথা থেকে কোন মেয়ে এসে কি অবস্থা করে তা তো বলা যায় না। মা অধৈর্য হয়ে বলেন, এটা কোন কথা হলো? সব মেয়ে একরকম হয়না ভালো-মন্দ সব মিলিয়ে আছে। বিবেক বিবেচনা আছে। সেও কোন পরিবারের সন্তান তার পরিবারে লোকজন আছে। তুই এতো চিন্তা করে নিজের সময় নষ্ট করিস না। পরিবারের সবার চাপের কাছে ফয়সাল আর বিয়ার দ্বিমত করতে পারে না। তবে ফয়সালের বিয়ের জন্য সুন্দর একটি পাত্রী পায়। পাত্রীর পরিবার ছেলে বয়স একটু বেশি হওয়ায় অমত করছিল। যখন জানলো ছেলে খুব ভালো ও দায়িত্ববান তখন পাত্রীর বাবা-মা মেয়ে বিয়েতে মত দিলেন।
ফয়সালের স্ত্রী শিলা একরোখা যা বলে তা করে ছাড়ে। শ্বশুর বাড়ি এসেই স্বামীর প্রতি উপদেশ, এটা বলা যাবে না, ওটা করা যাবে না। স্ত্রীর কথার বাইরে যাওয়া যাবেনা। ফয়সাল চুপচাপ স্বভাবের মানুষ। স্ত্রী যা বলে তা শোনে কিন্তু কোনো প্রতি উত্তর করে না। যেন শান্তি বজায় রাখার উত্তম উপায়।
ছোট ভাই রবিনের অনেক দিনের শখ একটা বাইকে। ফয়সাল বরাবরই বলে এসেছে পড়াশোনা শেষ করো তারপরে বাইক দেব। পড়াশোনা সময় এটা বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। ছোট ভাই রবিনের পড়ালেখা শেষ করে। ফয়সালকে কখনো কোন প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিতে হয় না। তার মনে আছে ছোট ভাই রবিনের অনেক দিনের আশা মোটরসাইকেল। সে ছোট ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেয়। বিস্ময় আনন্দে রবিন বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরে। এতে পরিবারের সবাই খুশি হলোও খুশি হয় না ফয়সালের স্ত্রী শিলা। স্বামীকে বলে, তোমার টাকা পয়সা খুব বেশি না? যে টাকার তাপ তুমি সামলাতে পারছ না। তাই ছোট ভাইকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছো! ফয়সাল সহজ করতে চেষ্টা করে, আরে টাকা পয়সা তেমন কই? ছোট ভাইয়ের অনেক দিনের একটা আবদার ছিল তাই দিলাম। দাবি তো আমারও আছে স্বামীর প্রতি। আমার গলা, হাতের স্বর্ণের সেট কিনতে হবে। তুমি দুষ্টামি করছো না? কারণ এগুলো তো সবই তোমার আছে। কেন আমাকে তোমার কি দুষ্টুমির পাত্রী মনে হয়? আমার কথা তোমার যেমনই মনে হোক, আমি যা বলছি সেগুলো করো না হয় আমি কি করি সেটা শুধু চেয়ে দেখতে পারবে। স্ত্রীর এমন কথায় ফয়সাল চমকে যায়। ভাবে শিলার মেন্টালিটি এমন একে নিয়ে তো পথ চলা খুবই দুষ্কর হবে! স্ত্রীকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। শুনো শিলা কোন কিছু পাল্লা দিয়ে হয় না। তোমার লাগলে তুমি বলতে পারো। তুমি আমার ভাই, বোনের সাথে কোন কিছুতে পাল্লা দিলে এটা কেমন ব্যাপার হয়? এ কখনোই আমার ভালো লাগবে না।
দুই বোন মিতু আর সেলিনা বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। খাওয়া দাওয়া শেষে পরিবারের সবাই একত্রে গল্প করতে বসেছে। সবাই সেখানে উপস্থিত থাকলেও শিলা তার রুমে। একসঙ্গে আড্ডায় হাসাহাসিতে সবাই মেতে ওঠে। হাসাহাসির শব্দ শুনে শিলার ঘুম ভেঙ্গে যায়। দুপুরে খাওয়ার পরে একটু শুয়েছি। গল্প গুজবের শব্দে ঘুমানো গেল না। সে উঠে এসে বলে, এখানে এত হাসাহাসি কিসের? মিতু আর সেলিনা বলে, ভাবি তুমিও এসো না। সদ্য ঘুম ভাঙ্গায় মেজাজ তখন তার সপ্তমে। আমি আসব তোমাদের আড্ডায়! জংলিদের মতো জংলিপনা করার আমার কোন ইচ্ছা নেই। মিতু আর সেলিনা আস্তে আস্তে দু'জনে বলাবলি করে, আমাদের পরিবার যেরকম ভাবী সেরকম না। শিলা বলে ওঠে, দু'জনে কি বিড়বিড় করছো? নিশ্চয় আমাকে নিয়ে কিছু বলছো? বিয়ে হলে মেয়েদের বাপের বাড়ি আর স্বামীর বাড়ির পার্থক্য বুঝতে হয়। বাবার বাড়ি বেশি আসতে হয়না। আবিদা এবার উত্তর না দিয়ে পাললেন না। কি বললে তুমি? আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন আমার মেয়েরা আমার কাছে আসবে। এটা কেউ নিষেধ করতে পারবে না। এতই যদি মেয়েদের কাছে রাখতে ইচ্ছে করে যেটার বিয়ে হয় নাই সেটাকে বিয়ে না দিয়ে কাছে রেখে দেন। ভাবীর এমন ঠেস মারা কথা শুনে রবিন বলে। ভাবী আমি পুরুষ মানুষ আমি চাইনা মহিলাদের কোন ব্যাপারে নাক গলাতে। রবিনের কথা শেষ করতে না দিয়ে শিলা বলে ওঠে, কি তুমি আমাকে মহিলা বললা? মহিলাকে মহিলা বলছি তাতে দোষের কি হয়েছে? আমি এখনো মহিলা হইনি, তরুণী আমি। বিতর্ক এখানেই শেষ হয় না। ফয়সাল অফিস থেকে আসলে শিলা শার্ট, প্যান্টের পকেট হাত দেয়। কি হয়েছে তুমি এসব কি করছো? টাকা পয়সা কি আছে না আছে দেখতে হবে না? সে তুমি আমাকে বললেই পারো। রুমে ঢুকতে না ঢুকতেই তুমি আমার শার্ট প্যান্টের পকেট তল্লাশি শুরু করছো।
আবিদা
0 Comments