হামার দাবি একটাই তিস্তা নদী খুঁড়ি চাই!


হামার দাবি একটাই তিস্তা নদী খুঁড়ি চাই!

বিপুল চন্দ্র রায়

খরা চৈত্র মাসের দুপুর। মাথার ওপর সূর্যটা যেন আগুন ঢালবার নাগছে। তিস্তা পাড়ের কাসেম আলী একদৃষ্টে নদীর দিকে চ্যায়া আছে। কিন্তু নদী কই? চোখের সামনে খালি ধূ-ধূ বালুচর। যেটে একসময় শোঁ-শোঁ করি পানি আছাড় খাইয়া পড়িছিল, ওটে এলা কেবল ধুলোর উড়ানি।

কাসেম আলী একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি পাশে বসা ছাওয়াটাক কয়, বুঝলু বাপই, বর্ষাকালে বানের পানির গরজন শুনি একসময় বুক কাঁপি উঠত। আর এলা? এই দেখ, নদীটা মরিয়া গেইল। মাইনষে কয় তিস্তা নাকি এলা মরা নদী!

নদীর এই মরণদশা খালি কাসেম আলীর একলার শোক লয়, এইটা গোটায় উত্তরবঙ্গ আর তিস্তা পাড়ের মানুষের কলিজার হাহাকার। আগে তিস্তাত জাল ফেলিলে বৈরাতি, বোয়াল, আইড়, চিতল, বাঘাড় মাছত থৈ থৈ করত। জেলারা মাছ মারি সংসার চালাইত। আর এলা নদীর বুকত আবাদ করা নাগে। পানি নাই দেখে চরের ধুলো উড়ি আবাদি জমিও নষ্ট হইয়া গেইল। 

কাসেম আলীর আক্ষেপ থামে না, নদী খনন  নাই, ড্রেজিং নাই। বালু জমিতে জমিতে নদীটা ভরি গেইল। পানি না থাকলে আবাদ হইবে কেমন করি? হামার ছাওয়া-পোয়াগুলা কি শেষে না খাইয়া মরিবে? উত্তরাঞ্চল কি মরুভূমি হইয়া যাইবে?

গ্রামের হাটে এলা একটাই কথা, তিস্তা বাঁচান।সগায়ই জোট বাঁধি কবার লাগছে,

সরকার যদি এলায় নদী খনন না করে, তবে এই সোনার উত্তরাঞ্চল মরুভূমি হইয়া যাইবে।

নদী খনন চাই: যতো তাড়াতাড়ি গঞ্জে (নদীর গভীরতা) বাড়েবার ব্যবস্থা করা নাগে। বালু তুলি নদী পরিষ্কার না করিলে পানি থাকিবে না।

পরিকল্পনা চাই: বছরের পর বছর খালি আশা দিলে হইবে না, কাম করি দেখান নাগে।

পরিবেশ বাঁচান: তিস্তা শুকাইলে উত্তরাঞ্চলের গাছপালা, পশুপাখি সব শেষ হইয়া যাইবে।

বেলা ডুবি যায়। তিস্তা পাড়ের বাতাসত হাহাকার ভাসে। কাসেম আলী লাঠিটা ধরি উঠি দাঁড়ায়। আকাশের দিকে মুখ করি কয়, ওরে বাপ সকল, এখনই সময়। তিস্তা বাঁচলে হামার কৃষক বাঁচিবে, উত্তরবঙ্গ বাঁচিবে। সবাই মিলি চিল্লাইয়া কও, তিস্তা নদী বাঁচাও, উত্তরাঞ্চল বাঁচাও! হামার দাবি মানি নেও, তিস্তা নদী খুঁড়ি (খনন) করি দাও!

  •  রাজারহাট-কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ।

Post a Comment

0 Comments