কবিতা: বাউন্ডুলে জীবন লেখক: আজহারুল ইসলাম আল আজাদ

গ্রাম শহর ও নগরের ধূসর পথ পেরিয়ে হাঁটি একাকী
পায়ের নিচে কাঁদামাটির স্মৃতিগুলোই জীবনের সাথী,
বাতাসে বাতাসে হারিয়ে যায় পুরোনো দিনের গল্প
আমি যেন সময়ের পরিত্যক্ত যাত্রী,
হাতে নেই দিকনির্দেশ, নেই কোনো ঠিকানা নেই পরমা প্রিয়সী, শুধু আকাশকে সাথী করে পথ খুঁজি।
বাউন্ডুলে জীবন, যার নেই বাঁধন, নেই কোনো দাবি
কেবল ভাঙা স্বপ্নের তামাশা বুকে বাজে, তার ছেঁড়া একতারা। আর ভবঘুরে চাঁদের আলোয় নিজেরই ছায়া
রাত নামলে ব্যাগটাও নীরব হয়ে যায়
গ্যাস ভর্তি পেটে, ক্ষুধা পেটের ভেতর আগুন জ্বালায়
তবু মনের ভেতর জন্ম নেয় অদ্ভুত স্বাধীনতা,
যেন সব হারানো মানুষের গোপন হাতছানি।
ভোরে রাস্তাগুলো জেগে ওঠে আজানের শব্দে
দোকানের সামনে ঝাঁট বুলাতে বুলাতে বৃদ্ধর ক্রোধ
আমি দেখি পৃথিবীর মতোই আমিও বদলাই প্রতিদিন।
কারও চোখে আমি পথহারা,
কারও চোখে আমি মুক্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি
আবার কারও কাছে আমি কেবল নিরুদ্দেশ ছায়া
জীবনের ধারে বসে থাকা এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
বন্ধুরা বলে,স্থির হও
ঘর তো বানাতে হবে
কিন্তু আমার প্রতিটি হাড়ে লেগে থাকে ভ্রমণের নেশা প্রতিটি কাঠে খোদাই থাকে মুক্ত আকাশের ছবি।
তাই ব্যস্ত শহরের ভিড়ে দাঁড়িয়েও
আমি শুনি মরুভূমির নীরবতা
শুনি পাহাড়ি ঝরনার দৌড়
শুনি অচেনা পাখির ডাকে ডানা মেলার সুর
বাউন্ডুলে জীবন মানে হারিয়ে যাওয়া নয়
বরং নিজেকে ছাড়িয়ে ওঠার এক দীর্ঘ যাত্রা
যেখানে প্রতিটি ভুলই শেখার দরজা
প্রতিটি ব্যথাই নতুন পথের আলো
আমি জানি একদিন এই পথেই হয়তো কোনো হাসি ফুটবে কেউ হাত বাড়িয়ে বলবে— ফিরে এসো
কিন্তু আমি তখনও বহমান নদীর মতো এগোতে থাকব
পৃথিবী আমাকে জড়িয়ে রাখতে চাইলে
আমি আকাশের কাছে শপথ নেব, স্বাধীন থাকব
কারণ বাউন্ডুলে মানে উড়ে যাওয়ার সাহস
হারানোর ভয় নয়, খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছে মাত্র।
তাই চলি, অনন্ত পথের দিকে
মুঠোভর্তি বাতাস, হৃদয়ভরা স্বপ্ন নিয়ে
বাউন্ডুলে জীবনের অদম্য যাত্রা বুকে ধারণ করে
চলি অনন্তকাল।


Post a Comment

0 Comments